সম্প্রতি দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি (এনআইওসি) এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। খবর রয়টার্স।
এনআইওসির ঘোষণা অনুযায়ী, আগস্টে এশীয় ক্রেতাদের জন্য ইরানি হালকা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার ৩৫ সেন্ট কম নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাইয়ে এ জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭ ডলার ১৫ সেন্ট প্রিমিয়াম বা সংযোজিত মূল্যে ধার্য করা হয়েছিল।
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এ বড় ধরনের দর সংশোধনকে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভূরাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং এশিয়ায় নিজেদের বাজার ধরে রাখতে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর পথ বেছে নিয়েছে ইরান।
জ্বালানি তেল খাতের আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওপেকসহ অন্য প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর তুলনামূলক কঠোর উৎপাদন ও মূল্যনীতির বিপরীতে নিজেদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া ইরানের জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল এশীয় দেশগুলোর জন্য এ ছাড় ব্যয় কমাতে বড় সুযোগ তৈরি করবে।
ঐতিহাসিকভাবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি কিছুটা চাপে থাকায় জ্বালানি তেল রফতানি দেশটির রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। ফলে আন্তর্জাতিক উত্তাল এ সময়ে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে দেশটি। তবে ইরানের এ বড় মূল্যছাড়ের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও দর কমাতে বাধ্য হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।